ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন সিস্টেম কী এবং এর প্রকারভেদ

Computer Science - ব্যাসিক ইলেক্ট্রনিক্স (Basic Electronics) - কমিউনিকেশন সিস্টেম
328

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন সিস্টেম হলো একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা যা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে তথ্যের আদান-প্রদান করে। এই সিস্টেমে তথ্য বা সিগন্যাল প্রেরণ ও গ্রহণ করার জন্য বৈদ্যুতিক বা ইলেকট্রনিক সিগন্যাল ব্যবহৃত হয়। ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন সিস্টেম বিভিন্ন মাধ্যমে যেমন অডিও, ভিডিও, ডেটা ইত্যাদির তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম।

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন সিস্টেমের মৌলিক উপাদানসমূহ

  1. তথ্য উত্স (Information Source): তথ্য তৈরি বা উৎপাদনের স্থান, যা সিগন্যাল রূপে প্রেরণ করা হয়।
  2. মাধ্যম (Transmission Medium): সিগন্যাল প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত মাধ্যম, যেমন কেবল, ফাইবার অপটিক, বা বেতার তরঙ্গ।
  3. মডুলেটর: তথ্য সিগন্যালকে ট্রান্সমিশন মিডিয়ামে পাঠানোর জন্য উপযুক্ত ফর্মে রূপান্তর করে।
  4. ডেমডুলেটর: প্রাপ্ত সিগন্যাল থেকে তথ্য পুনরুদ্ধার করে।
  5. নির্দেশক (Transmitter): সিগন্যালকে প্রেরণ করে।
  6. গ্রাহক (Receiver): প্রাপ্ত সিগন্যাল গ্রহণ করে এবং তথ্যের পুনরুদ্ধার করে।

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন সিস্টেমের প্রকারভেদ

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন সিস্টেমকে বিভিন্ন ধরনের শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে, নিচে কিছু প্রধান প্রকারভেদ উল্লেখ করা হলো:

১. আড়াআড়ি যোগাযোগ (Analog Communication)

আড়াআড়ি যোগাযোগ সিগন্যালগুলি সমন্বিত ধারা বা তরঙ্গ আকারে প্রেরণ করে। এখানে অডিও বা ভিডিও সিগন্যাল প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত হয়।

বৈশিষ্ট্য:

  • সিগন্যালের গুণমান সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়।
  • প্রথাগত রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারে ব্যবহৃত হয়।

ব্যবহার:

  • রেডিও সম্প্রচার, অডিও ডিভাইস, টেলিভিশন সিগন্যাল ইত্যাদি।

২. ডিজিটাল যোগাযোগ (Digital Communication)

ডিজিটাল যোগাযোগ সিগন্যালকে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করে এবং ডিজিটাল সিগন্যালের মাধ্যমে তথ্য প্রেরণ করে। এটি ডিজিটাল সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়।

বৈশিষ্ট্য:

  • তথ্য নির্দিষ্ট বিটের সিরিজে প্রেরিত হয়, যা noise থেকে সুরক্ষিত।
  • উচ্চ গতি এবং কার্যকরী তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষমতা।

ব্যবহার:

  • ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, ডিজিটাল টেলিভিশন, ভিডিও কনফারেন্সিং ইত্যাদি।

৩. সিম্পল যোগাযোগ (Simplex Communication)

সিম্পল যোগাযোগ সিস্টেমে তথ্য একদিকে প্রবাহিত হয়, অর্থাৎ একটি দিক থেকে তথ্য প্রেরণ করা হয়। প্রাপক তথ্য গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু প্রতিক্রিয়া দিতে পারে না।

  • ব্যবহার:
    • টেলিভিশন ব্রডকাস্টিং, রেডিও সম্প্রচার।

৪. ডুপ্লেক্স যোগাযোগ (Duplex Communication)

ডুপ্লেক্স যোগাযোগ সিস্টেমে তথ্য দুই দিকে প্রবাহিত হয়, অর্থাৎ একসাথে তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণ করা যায়।

  • বৈশিষ্ট্য:
    • সিস্টেমটি দুই ধরনের হতে পারে:
      • ফুল ডুপ্লেক্স: একসাথে তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণ করা হয় (যেমন টেলিফোন)।
      • হাফ ডুপ্লেক্স: একবারে শুধুমাত্র একটি দিক থেকে তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণ করা হয় (যেমন Walkie-Talkie)।

৫. মাল্টিপল এক্সেস যোগাযোগ (Multiple Access Communication)

মাল্টিপল এক্সেস যোগাযোগ ব্যবস্থা একাধিক ব্যবহারকারীকে একই সাথে একই চ্যানেলে তথ্য প্রেরণের অনুমতি দেয়।

বৈশিষ্ট্য:

  • বিভিন্ন পদ্ধতি যেমন FDMA (Frequency Division Multiple Access), TDMA (Time Division Multiple Access), CDMA (Code Division Multiple Access) ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

ব্যবহার:

  • মোবাইল টেলিফোন সিস্টেম, স্যাটেলাইট যোগাযোগ।

সারসংক্ষেপ

ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন সিস্টেম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি যা তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ মাধ্যম, সিগন্যাল এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্যের দক্ষ এবং নিরাপদ আদান-প্রদান নিশ্চিত করে। আড়াআড়ি ও ডিজিটাল যোগাযোগ, সিম্পলেক্স ও ডুপ্লেক্স যোগাযোগ, এবং মাল্টিপল এক্সেস যোগাযোগের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন সিস্টেম আধুনিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...